
ইজাব টিভি ষ্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার সিআর মামলা নং- ৭০৮/২২ এর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগ উঠেছে, খাজা ইকবাল আহসান উল্ল্যাহ নামের এক ব্যক্তি মিথ্যা পরিচয়ে নবাব ও মোতওয়াল্লী সেজে আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। তার সহযোগী হোসাইন আহমেদ ও মোবারক হোসেন এ প্রতারণার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে জানা গেছে, আল-মারজান বিল্ডার্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তারা নিরীহ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। একাধিক প্রচারপত্র বিলি করে তারা দাবি করেন, নবাব এস্টেট ও ওয়াকফ সম্পত্তির স্থায়ী লিজ দেওয়া হবে। বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে জমি পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন তারা।
অভিযুক্তরা মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বলেন, নবাব এস্টেটের জমি ভূমি মন্ত্রণালয় ও ওয়াকফ বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে লিজ দেওয়া হবে। এমনকি তারা আদালতের স্থগিতাদেশ ও স্ট্যাটাস-কো আদেশ অমান্য করে জমি লিজের কার্যক্রম চালিয়ে যান।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়েরকৃত একাধিক মামলায় নবাব এস্টেট ও ওয়াকফ সম্পত্তির বিষয়ে স্থগিতাদেশ ও স্ট্যাটাস-কো আদেশ ছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন প্রচারপত্র ও ভিডিও প্রকাশ করে জমি বিক্রির প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যান।
প্রতারিত অনেক মানুষ তাদের জমানো টাকা দিয়ে জমির জন্য অগ্রিম পরিশোধ করলেও কোনো জমি পাননি। টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এ ঘটনায় প্রতারিতদের আইনি সহায়তা দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোনো সম্পত্তি কেনার আগে সঠিক কাগজপত্র যাচাই করা এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।
