
ইজাব টিভি ডেস্ক : গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর কমান্ডার আলী কারকি এবং অন্যান্য হিজবুল্লাহ কমান্ডারও বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ দাহিয়েহ্তে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে, বৈরুতে হিজবুল্লাহর জেষ্ঠ্য কমান্ডার ইব্রাহিম আকিলকেও হত্যা করে ইসরাইল। লেবাননে এই নজিরবিহীন হামলায় হাসান নাসরাল্লাহ এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতার মৃত্যু দলটিকে একটি সম্ভাব্য নেতৃত্ব শূন্যতার সম্মুখীন করেছে। তাহলে এরপর কি হবে?
ইসরায়েল তার সাম্প্রতিক সাফল্যকে একটি বিশাল বিজয় বলে দাবি করলেও, পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সমর্থক ইরানের মধ্যে সঙ্ঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মারান্দি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘সামগ্রিকভাবে, হিজবুল্লাহকে সামরিকভাবে পরাস্ত করার ক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।
যদিও স্বল্পমেয়াদে হিজবুল্লাহকে কঠোরভাবে আঘাত করা হয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এটি অসম্ভব যে তারা দীর্ঘমেয়াদে খারাপভাবে প্রভাবিত হবে। কারণ, অনান্য নেতা নিহত নেতাদের স্থানে অভিষিক্ত হতে পারেন এবং গোষ্ঠিটি তার বিশাল সামরিক মজুদ এবং শক্তি বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে গোষ্ঠিটি এখন অস্তিত্ব সঙ্কট নয়, বরং একটি অস্থায়ী নেতৃত্বর শূন্যতার মধ্যে কৌশলগত পছন্দের মুখোমুখি। কার্নেগি মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের ইয়েজিদ সায়িগ বলেন, হিজবুল্লাহ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে না। ইরান এখন তাদের রক্ষা করতে না পারলেও তারা কৌশলগত ধৈর্য্য ধারণ করবে।
বিশেষজ্ঞরা অনেকাংশে একমত যে ইসরায়েল আক্রমণ চালিয়ে যাবে। নিরাপত্তা ও নীতি বিশ্লেষক আলী রিজ্ক শনিবার আল জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েল মনে করে নাসরাল্লাহর মৃত্যুর পর তারা গতিশীলতা পেয়েছে এবং নেতৃত্ব শূন্যতার সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চাইবে।
তবে, দোহা ইনস্টিটিউট অফ গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহাম্মদ এলমাসরির আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল প্রতিরোধকে নির্মূল করা এবং শান্ত করার কথিত লক্ষ্য অগত্যা অর্জন নাও করতে পারে। অতীতে, বর্ধিত আক্রমণ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও প্রতিরোধ ও বিরোধিতার জন্ম দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
যদিও নাসরাল্লাহর হত্যাকা- ইরানের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, কিন্তু ইরান কী জবাব দেবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দেশটি এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং এই অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তার এড়ানোর মধ্যে আরও সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক সিদ্বান্তের মুখোমুখি।
নিরাপত্তা ও নীতি বিশ্লেষক আলী রিজ্ক শনিবার আল জাজিরাকে বলেন, ইরান সম্ভবত সর্বাত্মক যুদ্ধের পথ বেছে নেবে না। দেশটি সম্ভবত ইসরায়েলের সাথে সরাসরি কোন সঙ্ঘর্ষে জড়ানোর আগে ইরাক ও ইয়েমেনের মিত্রসহ ছায়া বাহিনীগুলোর মাধ্যমে লড়াইয়ের স্বাভাবিক পদ্ধতি অব্যাহত রাখবে।
শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নাসরাল্লাহ হত্যার বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন, এটি প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে। শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুলে যাবে না যে এই সন্ত্রাসী হামলার আদেশ নিউইয়র্ক থেকে জারি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার পর তার প্রথম বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে ওয়াশিংটন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে সমর্থন করেছে। বাইডেন শত শত আমেরিকানদের হত্যার জন্য হিজবুল্লাহকে অভিযুক্ত করে নাসরুল্লাহর হত্যাকে ‘ন্যায়বিচার’ বলে অভিহিত করেন।
সূত্র : আল জাজিরা
