ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পদ থেকে সরিয়ে দিলো আমিরকে

ijab13

ইজাব ডেস্ক : বর্তমান ভারতের বিজেপি সরকারের সাথে মোটেও সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট অভিনেতা আমির খানের। গত বছরের নভেম্বরেই সে বিষয়টি খুব করে সবার সামনে আসে ‘অসহিষ্ণুতা’ প্রসঙ্গ ধরে। এবার তারই জের ধরে ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পদ থেকে কোনো কারণ ছাড়াই আমির খানকে সরিয়ে দিলো ভারতের পর্যটন দপ্তর।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নক্রেডিবল ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পদে আসিন ছিলেন আমির খান। ভারতীয় পর্যটনকে বিশ্বের দরবারে ভালোভাবে প্রচার এবং তুলে ধরার কাজটি খুব ভালোই করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই নেই দায়িত্ব থেকে কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দিলো বর্তমান ভারত সরকার। যদিও অনেকেই ধারণা করছেন, গত নভেম্বরে বিজেপি সরকারকে অসহিষ্ণু বলায় আমিরের বিরুদ্ধে এটা এক ধরণের প্রতিশোধ!

আমির খান শুধু ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরই ছিলেন না, জনস্বার্থেও প্রচুর কাজ করতে দেখা যায় তাকে। কিন্তু তাকে হঠাৎ করে সরিয়ে দেয়ায় কারণ হিসেবে বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞই ভাবছেন শুধুমাত্র বিজেপি সরকারের সমালোচনা করার জন্যই আমিরকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শুধু ভারতীয় মিডিয়ায় নয়, বরং আইটি এবং এসএম বিভাগের প্রধান ও বিজেপি নেতা অমিত মালভিয়া টুইটারে আমির খানকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে এবং সাম্প্রতিক তর্ক-বিতর্ক নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেই রীতিমত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমির খান। রাখডাক না রেখেই তিনি রাষ্ট্রব্যবস্থা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তার স্ত্রী কিরন রাও সন্তানদের নিয়ে এক ধরণের অনিরাপত্তার মধ্যে আছে বলেও সে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি। এমন মন্তব্যের পর ভারতজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠে। শুধু তাই না, অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে যেসব নির্মাতা ও অভিনেতারা তাদের অর্জিত জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদেরকেও সমর্থন করে কথা বলেছিলেন আমির। এটিকে তিনি প্রতিবাদের শক্তিশালী পদ্ধতি বলেও উল্লেখ করে ছিলেন। আর এরপর থেকেই পুরো ভারত জুড়ে তার নামে চলছে তর্ক-বিতর্ক। থানায় হয় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা। রাজপথে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়, এমনকি তাকে দেশ ছেড়ে যাওয়ারও দাবী তুলেন কেউ কেউ।

এখন দেখার বিষয়, ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়ার ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের পদ থেকে আমির খানকে অযথায় সরিয়ে দেয়ায় নতুন কোনো বিতর্ক মাথা চারা দিয়ে উঠে কিনা!